Cultural
তৃতীয় পুনর্মিলন উৎসব–২০২৪
স্মৃতির আঙিনায় ফিরে দেখা, বন্ধনের পথে নতুন করে এগিয়ে চলা
সাগরদ্বীপের পুণ্যভূমিতে শিক্ষার আলো ও আদর্শের যে প্রতিষ্ঠান বহু প্রজন্মের ছাত্রের জীবনকে আলোকিত করেছে, সেই মনসাদ্বীপ রামকৃষ্ণ মিশন উচ্চ বিদ্যালয় (উ: মা:) শুধু একটি বিদ্যালয়ের নাম নয়; অসংখ্য প্রাক্তন ছাত্রের কাছে এটি তাঁদের শৈশব, কৈশোর, শিক্ষা, বন্ধুত্ব, স্বপ্ন এবং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।জীবনের ব্যস্ততায় সময় আমাদের অনেক দূরে নিয়ে যায়। কেউ কর্মক্ষেত্রে, কেউ উচ্চশিক্ষায়, কেউ বা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিজের জীবন গড়ে তোলেন। কিন্তু প্রিয় বিদ্যালয়ের স্মৃতি কখনও দূরে সরে যায় না। সেই স্মৃতির টানেই আবার এক ছাদের নিচে, এক প্রাঙ্গণে, এক আবেগে মিলিত হওয়ার আয়োজন—তৃতীয় পুনর্মিলন উৎসব–২০২৪।
মনসাদ্বীপ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম ও উচ্চ বিদ্যালয় (উ: মা:) এবং মনসাদ্বীপ রামকৃষ্ণ মিশন প্রাক্তনী সংসদের উদ্যোগে এই বিশেষ পুনর্মিলন উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, রবিবার।
এই দিনটি ছিল প্রাক্তনীদের কাছে যেন অতীতে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর সুযোগ। বহুদিন পর পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা, প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সান্নিধ্য, বিদ্যালয়ের পরিচিত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো এবং অতীতের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও আবেগঘন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণানন্দজী মহারাজ, প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে অনন্যতম আচার্য, ব্রহ্মচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বেলুড় মঠ; এবং শ্রীমৎ স্বামী শেখরানন্দজী মহারাজ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও বর্তমানে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ভাব প্রচার পরিষদের সেবারত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আশ্রমের সাধু-ব্রহ্মচারীগণ, বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং প্রাক্তন ছাত্রদের বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।
দিনের শুরু
সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ছিল নাম নথিভুক্তকরণ ও প্রাতরাশ। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়া, পরিচয় পুনর্নবীকরণ এবং পুরোনো সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়েই শুরু হয় দিনের আবেগঘন পর্ব।
এরপর সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন। বিদ্যালয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এই মুহূর্তটি পুনর্মিলনের আবহকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
স্মৃতিচারণ ও আলোচনা
সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ। এই পর্বে প্রাক্তন ছাত্রদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বিদ্যালয়জীবনের স্মৃতি, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদান এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্ক উঠে আসে।
এই পর্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধু অতীতের গল্প বলা নয়; বরং সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কীভাবে আরও ভালো কিছু করা যায়, সেই ভাবনাকে সামনে আনা।
মধ্যাহ্নভোজন ও সাংস্কৃতিক পর্ব
দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ছিল মধ্যাহ্নভোজন। একসঙ্গে বসে আহার ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েও তৈরি হয়েছিল এক আন্তরিক পারিবারিক আবহ।
এরপর দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনের আনন্দ আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছিল সমাপনী সংগীত ও চা-পান। দিনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হলেও মিলনের আনন্দ তখনও শেষ হয়নি।
আবার সেই মাঠে
পুনর্মিলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিনোদনমূলক ভলিবল ও ফুটবল ম্যাচ।
একসময় যে মাঠে ছাত্রজীবনের দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা ও বন্ধুত্বের অসংখ্য স্মৃতি তৈরি হয়েছিল, সেই মাঠেই প্রাক্তনীরা আবার খেলায় নেমে পড়েন। বয়সের ব্যবধান সেখানে যেন মুহূর্তের জন্য হার মেনে যায়; ফিরে আসে স্কুলজীবনের সেই চেনা উচ্ছ্বাস, প্রতিযোগিতা এবং বন্ধুত্বের আনন্দ।
পুনর্মিলনের প্রকৃত সার্থকতা
তৃতীয় পুনর্মিলন উৎসব–২০২৪ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও কেবল কয়েকটি বছরের ছাত্রজীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি বিদ্যালয় তার ছাত্রকে শুধু পাঠ্যজ্ঞান দেয় না; তার চিন্তা, চরিত্র, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই প্রাক্তনীদের এই মিলন শুধু স্মৃতিচারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠুক—এই হোক পুনর্মিলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
যে বিদ্যালয় আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে,
যে শিক্ষকরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন,
যে প্রাঙ্গণ আমাদের শৈশবকে ধারণ করে রেখেছে—
তার কাছে ফিরে আসা কখনও শুধু ফিরে আসা নয়;
এ যেন নিজেরই এক টুকরো অতীতকে আবার খুঁজে পাওয়া।
তৃতীয় পুনর্মিলন উৎসব–২০২৪
ফিরে দেখা অতীতকে, উদ্যাপন বর্তমানকে,
আর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার বন্ধনে নির্মাণ করা আগামীকে।
মনসাদ্বীপ রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম ও উচ্চ বিদ্যালয় (উ: মা:) এবং মনসাদ্বীপ রামকৃষ্ণ মিশন প্রাক্তনী সংসদের উদ্যোগে এই বিশেষ পুনর্মিলন উৎসব অনুষ্ঠিত হয় ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪, রবিবার।
এই দিনটি ছিল প্রাক্তনীদের কাছে যেন অতীতে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর সুযোগ। বহুদিন পর পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা, প্রিয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সান্নিধ্য, বিদ্যালয়ের পরিচিত পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানো এবং অতীতের নানা স্মৃতি ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ হয়ে উঠেছিল প্রাণবন্ত ও আবেগঘন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ স্বামী পূর্ণানন্দজী মহারাজ, প্রাক্তন ছাত্র এবং বর্তমানে অনন্যতম আচার্য, ব্রহ্মচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বেলুড় মঠ; এবং শ্রীমৎ স্বামী শেখরানন্দজী মহারাজ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও বর্তমানে রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ ভাব প্রচার পরিষদের সেবারত। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আশ্রমের সাধু-ব্রহ্মচারীগণ, বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং প্রাক্তন ছাত্রদের বিভিন্ন প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।
দিনের শুরু
সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত ছিল নাম নথিভুক্তকরণ ও প্রাতরাশ। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়া, পরিচয় পুনর্নবীকরণ এবং পুরোনো সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তোলার মধ্য দিয়েই শুরু হয় দিনের আবেগঘন পর্ব।
এরপর সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন। বিদ্যালয়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এই মুহূর্তটি পুনর্মিলনের আবহকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।
স্মৃতিচারণ ও আলোচনা
সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণ। এই পর্বে প্রাক্তন ছাত্রদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, বিদ্যালয়জীবনের স্মৃতি, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদান এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সম্পর্ক উঠে আসে।
এই পর্বের মূল উদ্দেশ্য ছিল শুধু অতীতের গল্প বলা নয়; বরং সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কীভাবে আরও ভালো কিছু করা যায়, সেই ভাবনাকে সামনে আনা।
মধ্যাহ্নভোজন ও সাংস্কৃতিক পর্ব
দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত ছিল মধ্যাহ্নভোজন। একসঙ্গে বসে আহার ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েও তৈরি হয়েছিল এক আন্তরিক পারিবারিক আবহ।
এরপর দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুনর্মিলনের আনন্দ আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ছিল সমাপনী সংগীত ও চা-পান। দিনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হলেও মিলনের আনন্দ তখনও শেষ হয়নি।
আবার সেই মাঠে
পুনর্মিলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বিনোদনমূলক ভলিবল ও ফুটবল ম্যাচ।
একসময় যে মাঠে ছাত্রজীবনের দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা ও বন্ধুত্বের অসংখ্য স্মৃতি তৈরি হয়েছিল, সেই মাঠেই প্রাক্তনীরা আবার খেলায় নেমে পড়েন। বয়সের ব্যবধান সেখানে যেন মুহূর্তের জন্য হার মেনে যায়; ফিরে আসে স্কুলজীবনের সেই চেনা উচ্ছ্বাস, প্রতিযোগিতা এবং বন্ধুত্বের আনন্দ।
পুনর্মিলনের প্রকৃত সার্থকতা
তৃতীয় পুনর্মিলন উৎসব–২০২৪ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কখনও কেবল কয়েকটি বছরের ছাত্রজীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি বিদ্যালয় তার ছাত্রকে শুধু পাঠ্যজ্ঞান দেয় না; তার চিন্তা, চরিত্র, মূল্যবোধ ও জীবনদর্শন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই প্রাক্তনীদের এই মিলন শুধু স্মৃতিচারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশে দাঁড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠুক—এই হোক পুনর্মিলনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।
যে বিদ্যালয় আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে,
যে শিক্ষকরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন,
যে প্রাঙ্গণ আমাদের শৈশবকে ধারণ করে রেখেছে—
তার কাছে ফিরে আসা কখনও শুধু ফিরে আসা নয়;
এ যেন নিজেরই এক টুকরো অতীতকে আবার খুঁজে পাওয়া।
তৃতীয় পুনর্মিলন উৎসব–২০২৪
ফিরে দেখা অতীতকে, উদ্যাপন বর্তমানকে,
আর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার বন্ধনে নির্মাণ করা আগামীকে।